আশিকুর রহমান, গাজীপুর: টঙ্গীতে ভিকটিম জাহিদ হাসান জনী (২১) আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন শফিউদ্দিন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো: ১। মোঃ হেমায়েত হোসেন (৩৩), ২। মোহাম্মদ খোরশেদ আলম (৩০), ৩। মোঃ বিল্লাল (৩০) ৪। লিয়াকত আলী খান ৫। মোঃ সালাউদ্দিন শুভ। ভিকটিম জাহিদ হাসান জনী বিয়ার্তা গ্রামের ত্রিশাল থানার ময়মনসিংহ জেলার মৃত রোকন উদ্দিনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম জাহিদ হাসান জনী টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন আউচ পাড়া এলাকার মেরিট স্কুলের পাশে জৈনিক লিয়াকত আলি খান এর ভাড়া বাসায় স্ত্রীসহ থাকতেন। তিনি পুবাইল থানা এলাকায় বাংলালিংক সিম বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করতেন। সিম বিক্রির টাকা নির্দিষ্ট সময়ে বুঝিয়ে না দেওয়ায় বাংলালিংক কোম্পানির প্রতিনিধি মোঃ হেমায়েত হোসেন (৩৩), মোহাম্মদ খোরশেদ আলম (৩০), মোঃ বিল্লাল (৩০) গত ৭ নভেম্বর টাকা দেওয়ার জন্য ভিকটিম জাহিদ হাসান জনীকে চাপ প্রয়োগ করে।
পরবর্তীতে টাকা না পেয়ে গত ৮ নভেম্বর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে বাংলালিংক কোম্পানীর উল্লেখিত ৩ জনসহ বাড়ীওয়ালা লিয়াকত আলী খান, তার মেয়ের জামাই মোঃ সালাউদ্দিন শুভ এবং বাড়ীওয়ালা মালিক সমিতির লোকজনসহ টাকার জন্য জনীকে বাড়ীওয়ালার একটা কক্ষে আটকিয়ে রেখে বাহির থেকে তালাবদ্ধ করে দেয়। জনীর স্ত্রী নূসরাত জাহান তিশাকে বাড়ীওয়ালার মেয়ের সাথে রাখে। পরে ৮ নভেম্বর সকাল আনুমানিক ১০ টার দিকে উল্লেখিত আসামীগণ তালা খুলে ভেতর থেকে আটকানো দরজা ভেঙ্গে দেখতে পায় ভিকটিম জাহিদ হাসান জনী উল্লেখিত কক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে রশ্মি বেঁধে গলায় ফাসঁ লাগিয়ে ঝুলে আছে।
পরে থানা পুলিশ খবর পেয়ে তৎক্ষনাৎ ঘটানাস্থল গিয়ে মৃত দেহের সুরতহাল প্রস্তুত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ সাখাওয়াত হোসেন জানান, এ সংক্রান্তে টঙ্গী পশ্চিম থানার মামলা নং-০৬,তারিখ-০৯/১১/২০২৩, ধারাঃ- ৩০৬ দন্ডবিধি রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী অফিসার টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই শরীফ হোসেন টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন শফিউদ্দিন এলাকা থেকে এজাহার নামীয় উপরে উল্লেখিত ৫ আসামীদের গ্রেফতার করেন।